• শিরোনাম

    সিঙ্গাপুরে অভিবাসী শ্রমিকদের পাশে বাংলাদেশি কবির হোসেন

    চিনাইরবার্তা.কম প্রবাস ডেস্কঃ | বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২০

    সিঙ্গাপুরে অভিবাসী শ্রমিকদের পাশে বাংলাদেশি কবির হোসেন

    বিশ্বব্যাপী মহামারি আকার ধারণ করা করোনাভাইরাসে বিপাকে পড়া ‍সিঙ্গাপুর প্রবাসীদের মধ্যে ইফতার ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করে চলেছেন বাংলাদেশি বংশভূত সিঙ্গাপুরের নাগরিক কবির হোসেন। রমজানের শুরু থেকে দেশটির বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এসব খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করছেন সিঙ্গাপুরের ব্রুকলিঞ্জ স্টেইনলেস স্টিল প্রা. লিমিটেড কোম্পানির সিইও কবির হোসেন।

    করোনাভাইরাসের কারণে সিঙ্গাপুরে লকডাউন চলছে। এমন অবস্থায় সে দেশে কাজ করতে যাওয়া হাজার হাজার বাংলাদেশি নাগরিক মানবেতন জীবনযাপন করছেন। কারণ খাদ্যের প্রয়োজন থাকলেও তারা বাসার বাইরে যেতে পারছেন না। হাজার হাজার বাংলাদেশি আটকা রয়েছেন দেশটিতে সবচেয়ে বেশি কোভিড-১৯ সংক্রমিত হওয়া এলাকাগুলোতে। ঝুঁকি নিয়ে সেসব এলাকায় গিয়ে ইফতার ও প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন কবির হোসেন ও তার স্ত্রী নূরিয়া বেগম। সঙ্গে আছেন আরো দুই সহযোগী।

    কবির হোসেন জানান, সিঙ্গাপুরে এখন পর্যন্ত ১৯ হাজারের বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ৮০ শতাংশই সিঙ্গাপুরের অভিবাসী শ্রমিক। যাদের মধ্যে বাংলাদেশিদের সংখ্যাই বেশি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সে দেশের সরকার দেশটি লকডাউন করেছে। কেউ বাসা থেকে বের হতে পারছে না। কর্মহীন হয়ে পড়েছে হাজার হাজার অভিবাসী শ্রমিক।

    তিনি জানান, দুইটি ডেলিভারি ভ্যানে করে সিঙ্গাপুরের একপ্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ডরমিটরি থেকে ডরমিটরিতে প্রবাসীদের বাসস্থানে ইফতার সামগ্রী পৌঁছে দিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিদিন সকাল থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত তিনি নিজেই গাড়ি চালিয়ে এ সকল কাজ করে যাচ্ছেন ‍নিরলসভাবে।

    কবির বলেন, ‘প্রতিদিন দুইটা লরি (ডেলিভারি ভ্যান) দিয়ে ৮ থেকে ১৬টা ট্রিপ দিতে হচ্ছে সারা সিঙ্গাপুরে। প্রথমদিকে এতো কল আসত যে আমরা হিমশিম খেয়ে গিয়েছিলাম। কোন দিকে যাব, কাকে দিব। ঠিকানামত খুঁজে বের করে জিনিসপত্র পৌঁছে দেয়াটা সত্যিই কষ্টসাধ্য ব্যাপার ছিল। একটা ডরমিটরি থেকে আরেকটা ডরমিটরিতে যেতে অনেক দূর, এ কারণে আমরা সময়মত ইফতারিও করতে পরিনি অনেক দিন। এমন হয়েছে ইফতারের আধাঘণ্টা পর রাস্তায় শুধু পানি একটু খেজুর দিয়ে ইফতারি সেরেছি।‘

    দেশটিতে বাংলাদেশের এক লাখের বেশি অভিবাসী শ্রমিক রয়েছে। তাদের সহযোগিতা করতে এমটি এ্যাপস তৈরি করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ব্যস্ততার কারণে অনেকের ম্যাসেজ, ফোন রিসিভ করতে না পারায় তাদের কাছে পৌঁছাতে পারিনি। তাই অভিবাসীদের চাহিদার ও দ্রুত সময়ে পৌঁছানোর কথা ভেবে আমরা একটি অ্যাপস বানিয়েছি। তাদের কি কি পণ্য, কি পরিমাণ, কোথায় পৌঁছে দিতে হবে তা অ্যাপসের মাধ্যমে অর্ডার দিয়ে রাখে আমরা সময়মত তাদের চাহিদামত পণ্য সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছি। অনেক ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় গিয়েছি, করোনার ভয়ে যেখানে কেউ যেত না। সবচেয়ে ইনফেক্টট এরিয়া সেগুলো। এস এলিভেন ডরমিটরি যেখানে ২০ হাজার শ্রমিক আটকা পড়ে আছে করোনার জন্য। সেখানেও আমরা ইফতার সামগ্রী দিয়ে আসছি।‘

    সিঙ্গাপুরে ইফতার সামগ্রীর সংকট উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মালয়েশিয়ান সাপ্লাইয়ার্সের কাছ থেকে ফলমূলসহ বেশির ভাগ মাল আনা হচ্ছে। সিঙ্গাপুরে ইফতার সামগ্রীর সংকটের কারণে মালয়েশিয়া থেকে বেশি দামে আনতে হচ্ছে বাধ্য হয়ে। আমাদের কাছে টাকা আছে কিন্তু সিঙ্গাপুরে পর্যাপ্ত ইফতার সামগ্রী নেই, এটা নিয়ে চিন্তিত।‘

    তার এই কার্যক্রম প্রথমে ব্যক্তিগত তহবিল থেকে শুরু হলেও পরে অনেকেই সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন বলে জানান বাংলাদেশি বংশভূত এই সিঙ্গাপুরের নাগরিক। বলেন, ‘ব্যক্তিগত তহবিল গঠন করে কাজ চালিয়ে যাই। এরপর স্বেচ্ছায় অনেকে সাহায্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে এই তহবিলে অনুদান ও স্বেচ্ছাশ্রমে এগিয়ে আসতে থাকে।‘

    কবির হোসেন বলেন, ‘এই কাজটি করতে যেয়ে করোনা ভাইরাসের ঝুঁকি, ভয়ের বিষয়টি মনেই আসে না কিন্তু শারীরিক মানসিকভাবে আমি কঠিন সময় পাড় করেছি। তারপরও আমার বাংলাদেশের প্রবাসী ভাইদের জন্য কিছু করার সুযোগ পেয়ে গর্বিত আমি। ইচ্ছা ও আন্তরিকতা থাকলে যে কেউ যে কোনো স্থান থেকে মানবকল্যাণে আসতে পারে।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে চিনাইরবার্তা.কম