• শিরোনাম

    অবশেষে ইচ্ছা পূরণ মালেকার

    | বৃহস্পতিবার, ২৫ মার্চ ২০২১

    অবশেষে ইচ্ছা পূরণ মালেকার

    দুর্গম এলাকা বিটঘর। এমন গ্রামেও হানা দেয় পাকিস্তানি সেনা ও রাজাকাররা। ৮০ জনকে হত্যা করে। তাঁদের একজন শহীদ শামসুল হক। তাঁর জমিতেই সেদিন রক্তের বন্যা বইয়ে দিয়েছিল হানাদাররা। শামসুলের স্ত্রী মালেকা খাতুনের ইচ্ছা, ওই স্থানে একটা কিছু হোক। অবশেষে বধ্যভূমিতে শহীদদের নামফলক ও স্মৃতিসৌধ নির্মিত হয়েছে।

    বিটঘর গ্রামটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরাইল উপজেলা পানিশ্বর ইউনিয়নে পড়েছে। বিটঘর গ্রামে গণহত্যার বিষয়ে তথ্য মেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মুক্তিযুদ্ধ গবেষক জয়দুল হোসেনের বিটঘর গণহত্যা (গণহত্যা–নির্যাতন ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গবেষণা কেন্দ্র, ১৯৭১: গণহত্যা–নির্যাতন আর্কাইভ ও জাদুঘর ট্রাস্ট) বইয়ে।

    দুর্গম যোগাযো ব্যবস্থার কারণেই বিটঘর বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়। গ্রামবাসী তাঁদের নানাভাবে সহযোগিতা শুরু করেন। ৩০ অক্টোবর দুপুরে ওই গ্রামের পাশে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে পাকিস্তানি সেনা ও রাজাকারদের সম্মুখযুদ্ধ হয়। সন্ধ্যার পর দলছুট এক পাকিস্তানি সেনাকে হত্যা করেন পাশের দুর্গাপুর গ্রামবাসী। গুরুতর আহত করেন উপজেলার সৈয়দটুলা (বর্তমানে কালীকচ্ছ) গ্রামের মনু মিয়া নামের এক রাজাকারকে।

    এর প্রতিশোধ নিতে দুই শতাধিক পাকিস্তানি সেনা ও রাজাকার ৩১ অক্টোবর বিটঘর গ্রামে হানা দেয়। তারা ৮০ জনকে ধরে এনে শামসুল হকের জমিতে জড়ো করে। সেখানে শামসুল হকসহ সবাইকে হত্যা করা হয়। রাজাকাররা গ্রামটিতে ব্যাপক নির্যাতন, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে।

    স্বামীসহ ৮০ জনের রক্তমাখা স্থানটি আগলে রেখেছেন শহীদ শামসুলের স্ত্রী মালেকা খাতুন। তিনি ২০০৪ সালে ওই স্থানের ১৫ শতক জমি বধ্যভূমির জন্য দান করেন। জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খান শহীদজায়া মালেকার ইচ্ছা পূরণের উদ্যোগ নেন। সাড়ে ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে বধ্যভূমিতে শহীদ ৮০ জনের নামসংবলিত আটটি ফলক ও একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করেন। ২০১৯ সালের অক্টোবর মাসে এই নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়।

    শহীদজায়া মালেকা খাতুন (৭৫) প্রথম আলোকে বলেন, স্বামীর রক্তমাখা স্থানটায় নামফলক ও স্মৃতিসৌধ নির্মিত হওয়ায় তিনি খুশি। এ জন্য জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খানকে ধন্যবাদ দেন।

    এদিকে বধ্যভূমিতে নামফলক ও স্মৃতিসৌধ নির্মিত হলেও জটিলতা কাটেনি। ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে তিনবার উদ্বোধনের তারিখ

    নির্ধারণ করেও বাতিল করে সরাইল উপজেলা প্রশাসন। মূলত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি কে হবেন, তা নিয়ে একজন জনপ্রতিনিধির সঙ্গে স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বিরোধের কারণে ওই জটিলতা সৃষ্টি হয়।

    জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খান প্রথম আলোকে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণ করা সবার নৈতিক দায়িত্ব। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করছেন।-প্রথম আলো

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
  • ফেসবুকে চিনাইরবার্তা.কম