• শিরোনাম

    নরমাল ডেলিভারি বেড়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে

    | বৃহস্পতিবার, ১৮ মার্চ ২০২১

    নরমাল ডেলিভারি বেড়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বেড়েছে গর্ভবতী নারীদের নরমাল ডেলিভারি। আধুনিক এই যুগে জীবনমান উন্নত হওয়ার সাথে সাথে চিকিৎসা ব্যবস্থাও ব্যাপক উন্নত হচ্ছে। আধুনিক জীবনযাত্রায় প্রসবকালে ব্যথার অনাকাঙ্ক্ষিত ভয়ে সিজারিয়ান অপারেশনের দিকে আগ্রহ বাড়ছে নারীদের। কমছে নরমাল ডেলিভারি।

    তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ব্যতিক্রম ঘটেছে। ২০২০ সালে জানুয়ারি মাস থেকে চলতি বছরের মার্চের ১৬ তারিখ পর্যন্ত এই হাসপাতালের গাইনি বিভাগে ৭৬৮টি শিশু নরমাল ডেলিভারিতে জন্মগ্রহণ করেছে। বিপরীতদিকে একই সময়ে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে শিশু জন্ম নিয়েছে প্রায় দুই শতাধিক। যা নরমাল ডেলিভারির তুলনায় অত্যন্ত কম।

    পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেখা যায়, ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে ৮৫ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৮৭ জন, মার্চে ৬৩ জন, এপ্রিলে ২৫ জন, মে মাসে ৪১ জন, জুনে ১৯ জন, জুলাইয়ে ২০ জন, আগস্ট মাসে ৫২ জন, সেপ্টেম্বরে ৪৭ জন, অক্টোবরে ৫৭ জন, নভেম্বরে ৭৭ জন, ডিসেম্বরে ৫৫ জন, ২০২১ সালের জানুয়ারিতে ৫৭ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৫৭ জন ও ১৬ মার্চ পর্যন্ত ২৬ জন শিশু নরমাল ডেলিভারিতে জন্মগ্রহণ করে। এদের মধ্যে ৫টি যমজ শিশু।

    এছাড়াও গত ১৪ মাসে এই হাসপাতালে ১১৩টি শিশু মৃত ডেলিভারি হয়। এরমধ্যে তিনটি ছিল যমজ শিশু।

    গত বছরের এপ্রিল মাস থেকে করোনাভাইরাসের মহামারিতে সরকার ঘোষিত লকডাউনের কারণে প্রায় তিন মাস হাসপাতালে প্রসূতি রোগী আসে তুলনামূলক অনেক কম। সেসময় নিরুপায় হয়ে বাড়িতে নরমাল ডেলিভারি করার চেষ্টা করা হয়েছে গর্ভবতীদের। যা অনেকটাই ছিল ঝুঁকিপূর্ণ।

    চিকিৎসকরা বলছেন, যাদের বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা যেমন- ডায়াবেটিস, হাই ব্লাডপ্রেশার ইত্যাদি আছে বাচ্চা আকারে বড় হয়ে গেলে, বাচ্চার হার্ট রেট বেড়ে গেলে বা কমে গেলে এবং যদি নরমাল ডেলিভারি মা ও শিশুর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায় তাহলে সেক্ষেত্রে চিকিৎসকরাই সিজারিয়ান ডেলিভারি করে থাকেন।

    আর নরমাল বা স্বাভাবিক প্রসব মা ও সন্তান উভয়ের জন্যই অনেক ভালো। এখন ব্যথামুক্ত স্বাভাবিক প্রসব করা হচ্ছে। ডেলিভারির ১২ ঘণ্টার মধ্যেই মায়েদের হাসপাতাল থেকে রিলিজ দেয়া সম্ভব। যেহেতু নরমাল ডেলিভারিতে ঝামেলা কম তাই মায়েরা খুব দ্রুত শিশুদেরকে বুকের দুধ পান করাতে পারেন এবং খুব শিগগিরই স্বাভাবিক জীবনযাপন শুরু করতে পারেন। নরমাল ডেলিভারির পর কারো যদি কোনো ইনফেকশন হয় অথবা কেও যদি ভবিষ্যতে কনসিভ করতে চান তাহলে আর কোনো সমস্যা হয় না।

    বাচ্চা প্রসবের পর মায়ের পেটে কোনো অপারেটিভ স্কার থাকবে না। টাকা পয়সার বিষয়ে চিন্তা করতে হয় না, সেটিও কম। পরবর্তী সময়ে তার যেসব প্রসব হবে সেগুলো স্বাভাবিক হবে। হাসপাতালে থাকা কমে যাবে, সংক্রমণের আশঙ্কা কমে যাবে। এমনকি যেই শিশুটা হয় তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি থাকে, সুস্থ বেশি থাকে।

    ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের কনসালটেন্ট ডা. ফৌজিয়া আক্তার বলেন, করোনার মহামারির সময়ে প্রসূতি মায়েদের অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে। দেশে লকডাউনের কারণে প্রসবব্যথা ওঠার পর পরিবহন সমস্যায় অনেক রোগী বাড়িতেই সন্তান প্রসব করেছেন। তবে কিছু ক্ষেত্রে বাড়িতে নরমাল ডেলিভারি হওয়ায় জরায়ু ছিঁড়ে সমস্যা হয়েছে। অনেকে মারাও গেছেন।

    তিনি আরও বলেন, করোনার সময়ে আমরা চিকিৎসা নিতে আসা প্রসূতিদের মোবাইল নম্বর রেখে দিতাম এবং হাসপাতালে প্রসূতি মায়েরা যেখানে চিকিৎসা নিতে আসতেন সেখানকার ফোন নম্বরও তাদের দিয়ে দেয়া হয়েছিল। এতে অনেক প্রসূতি ব্যথা ওঠার পর হাসপাতালে যোগাযোগ করে এসেছেন।

    তখন আমরা নরমাল ডেলিভারি করেছি। করোনার মাঝেও আমরা সরকারি এই হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টা প্রসূতিদের ডেলিভারি করেছি। নরমাল ডেলিভারির বিষয়ে আমরা করোনার আগে থেকেই রোগীদের কাউন্সেলিং করেছি। এইক্ষেত্রে আমরা সফলতা পেয়েছি।

    এই বিষয়ে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক শওকত হোসেন বলেন, সরকার প্রসূতিদের চিকিৎসা অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছে। এক্ষেত্রে চিকিৎসক ও নার্সদের বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।

    নরমাল ডেলিভারির জন্য রোগীদের কাউন্সেলিং করার বিষয়টি বেশি কাজ করেছে। হাসপাতালের ১১৫ নম্বর কক্ষে প্রসূতিদের চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়। ওই কক্ষের মোবাইল নম্বর রোগীদের দিয়ে রাখা আছে। তাছাড়া প্রসূতিদের নম্বরও আমরা রাখছি। তাদের সময়মতো ফোন করে নানা রকম সেবা ও হাসপাতালে আসার সময় জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে।-জাগো নিউজ

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
  • ফেসবুকে চিনাইরবার্তা.কম