• শিরোনাম

    ভারত থেকে যে কারণে তেঁতুলের বিচি আনলো বাংলাদেশ

    | বুধবার, ১০ মার্চ ২০২১

    ভারত থেকে যে কারণে তেঁতুলের বিচি আনলো বাংলাদেশ

    সম্প্রতি ভারত থেকে বিপুল পরিমাণ তেঁতুলের বিচি আমদানি করেছে বাংলাদেশ। আচার ও আচার জাতীয় খাবার হিসেবে তেঁতুল বেশ জনপ্রিয়। তবে তেঁতুল পরিচিত ফল হলেও, এর বিচি আমদানি করার কথা সচরাচর শোনা যায় না। তবে কী কারণে ভারত থেকে এই পণ্য আমদানি করতে হলো বাংলাদেশকে?

    তেঁতুল কম-বেশি আমরা সবাই খাই। সাধারণত দারুণ সুস্বাদু এই ফলটি খেয়ে বিচিটা আমরা কোনো দিকে না তাকিয়েই ছুঁড়ে ফেলে দেই। তবে তেঁতুলের বিচি যে একেবারে ফেলনা নয়, তা বাংলাদেশ প্রতি টন তেঁতুলের বিচি ২০০ মার্কিন ডলার মূল্যে আমদানি করার তথ্য জানার পর বোঝা গেল।

    বলা হচ্ছে, দেশীয় উৎপাদনে বাজারের চাহিদা মেটানো যাচ্ছে না বলেই এই তেঁতুলের বিচি আমদানি করা হয়েছে।

    তেঁতুলের বিচি আমদানিকারক সত্যজিৎ দাস বিবিসিকে বলেছেন, বাংলাদেশে মূলত পাটকল ও কাপড়ের মিলে সুতা রং করার কাজে তেঁতুল বিচি ব্যবহার করা হয়। তার মতে, সুতার রং টেকসই করার কাজে বহুদিন ধরেই তেঁতুল বিচি ব্যবহার করা হয়। এছাড়া মশার কয়েল তৈরির কাজে কাঁচামাল হিসেবেও ব্যবহার হয় তেঁতুল বিচি।

    দেশে মশার উপদ্রব বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে স্থানীয় যেসব উদ্যোক্তারা এখন কয়েল তৈরি করছেন, তারাই এই আমদানিকৃত তেঁতুলের বিচির বড় ক্রেতা। এসব শিল্প উৎপাদন কেন্দ্রিক প্রয়োজনের বাইরে তেঁতুল বিচি ঔষধি গুণের কারণেও খুবই দরকারি একটি জিনিস।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক শামীম শামছি বলেছেন, তেঁতুল বিচি ইউনানি, আয়ুর্বেদ, হোমিও এবং অ্যালোপ্যাথিক ওষুধের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার হয়।

    তিনি আরও বলেন, শুষ্ক চোখের চিকিৎসায় যে ড্রপ তৈরি হয়, তাতে তেঁতুল বিচি ব্যবহার করা হয়। এছাড়া পাকস্থলীর গোলযোগ, লিভার ও গলব্লাডারের সক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে তেঁতুল বিচি।

    অনেকে মনে করেন, তেঁতুল খেলে রক্ত পানি হয়ে যায়; সে সঙ্গে নাকি বুদ্ধিও কমে। এজন্য বাচ্চাদের তেঁতুল খেতে বারণ করা হয়। এগুলো নিছক কুসংস্কার।

    বাস্তবে ঠিক উল্টো। তেঁতুল রক্ত পরিষ্কার করে। মস্তিষ্কে চিন্তা করার ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া গর্ভকালীন বমিভাব ও মাথা ঘোরার সমস্যায় তেঁতুল বিচির শরবত উপকারী। এর বিচি নকশি শিল্পে ব্যবহার হয়। এসব কারণে তেঁতুলকে বলা হয় বিস্ময়কর ফল।

    তেঁতুলে আছে চোখ ধাঁধানো পুষ্টি। পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে, এর প্রতি ১০০ গ্রাম কাঁচাফলে ক্যালসিয়াম আছে ২৪ মিলিগ্রাম এবং পাকাফলে রয়েছে ১৭০ মিলিগ্রাম। অর্থাৎ পাকা তেঁতুলে পুষ্টির পরিমাণ অনেক বেশি।

    স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাকা তেঁতুল হৃদরোগের জন্য উপকারী। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে। তেঁতুলের সঙ্গে রসুন মিশিয়ে খেলে রক্তের কোলস্টেরল কমে। নিয়মিত তেঁতুল খেলে প্যারালাইসিস রোগীর অনুভূতি ফিরে আসার জন্য সহায়ক।

    তেঁতুলে থাকা টারটারিক অ্যাসিড থাকায় হজমশক্তি বাড়ায়। বুক ধড়ফড়, মাথা ঘুরানো, হাত-পা জ্বালা, কোষ্ঠকাঠিন্য, আমাশয় ও ক্ষুধামন্দা নিরাময়ে বেশ কাজ করে। এছাড়া শরীরের ক্ষত সারাতেও সাহায্য করে তেঁতুল।

    শনিবার ভারত থেকে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারতীয় তিনটি ট্রাকে ৯০ মেট্রিক টন তেঁতুল বিচি আমদানি হয়েছে। প্রতি টন তেঁতুল বিচির আমদানি মূল্য ২০০ মার্কিন ডলার।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
  • ফেসবুকে চিনাইরবার্তা.কম