• শিরোনাম

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই শহীদ মিনার নেই

    | রবিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২১

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই শহীদ মিনার নেই

    মহান একুশে ফেব্রুয়ারিতে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের উপযুক্ত স্থান শহীদ মিনার। অথচ ভাষা সৈনিক শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত’র জন্মস্থান ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মিত হয়নি আজো।

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কৃতি সন্তান ও ভাষা সৈনিক শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি সর্বপ্রথম পাকিস্তান গণপরিষদে অধিবেশনের সকল কার্যবিবরণী ইংরেজি ও উর্দুর পাশাপাশি বাংলাতেও রাখার দাবি উত্থাপন করেন।

    ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার যে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার আছে, সেগুলোও সারা বছর থাকে অযত্ন-অবহেলায়, অপরিষ্কার-অপরিচ্ছন্ন। ভাষার মাস এলেই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়। ধুয়ে-মুছে প্রস্তুত করা হয় শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য।

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় মোট ১ হাজার ৪শ ৬৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ১শ ৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ৩৬৫টি সরকারি, বেসরকারি কলেজ, উচ্চ ও নিম্ন মাধ্যমিক উচ্চ বিদ্যালয় এবং মাদরাসা। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র ৩০৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার আছে।

    অন্যদিকে ৩৬৫টি সরকারি ও বেসরকারি কলেজ, উচ্চ ও নিম্ন মাধ্যমিক বিদালয় ও মাদরাসার মধ্যে মাত্র ১৫৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার আছে। বাকি ২১২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোন শহীদ মিনার নেই।

    ১ হাজার ১শ ৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে মাত্র ১৫৫টিতে শহীদ মিনার আছে। বাকি ৯৪৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোন শহীদ মিনার নেই।

    ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে- সদর উপজেলার ১২৯টি সরকারি প্রাথমিকের মাত্র ১৬টিতে, বিজয়নগর উপজেলার ৯৯টি সরকারি প্রাথমিকের মাত্র ৫টিতে, নাসিরনগর উপজেলার ১২৬টি সরকারি প্রাথমিকে মাত্র ১২টিতে, সরাইল উপজেলার ১২৬টি সরকারি প্রাথমিকের মাত্র ৬টিতে, আশুগঞ্জ উপজেলার ৪৯টি সরকারি প্রাথমিকের মাত্র ৬টিতে, নবীনগর উপজেলার ২১৮টি সরকারি প্রাথমিকের মাত্র ৩৫টিতে, বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ১৩৯টি সরকারি প্রাথমিকের মাত্র ২১টিতে, কসবা উপজেলার ১৬৩টি সরকারি প্রাথমিকের মাত্র ১২টিতে এবং আখাউড়া উপজেলার ৫৪টি সরকারি প্রাথমিকের ৪২টি বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার রয়েছে।

    জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে- জেলায় সরকারি, বেসরকারি কলেজ, উচ্চ ও নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং মাদরাসাসহ মোট ৩৬৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৫৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার আছে। এর মধ্যে ৩৮টি কলেজের মধ্যে ২৩টিতে, ৮৪টি মাদরাসার মধ্যে ১৩টিতে এবং ২৪৩টি উচ্চ ও নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১১৭টিতে শহীদ মিনার আছে।

    তবে জেলাবাসীর কাছে জেলার মূল শহীদ মিনার হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ মাঠের শহীদ মিনারটিই পরিচিত।

    বিজয়নগর উপজেলার পাহাড়পুর ইউনিয়নের ভিটিদাউদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ হাফিজ বলেন, স্কুলের শহীদ মিনার না থাকার ফলে কলা গাছ দিয়ে শহীদ মিনার বানিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই আমরা।

    একটি শহীদ মিনার হলে আমাদের জন্য ভাল হয়। সরকারের কাছে আবেদন যেন দ্রুত এতটি শহীদ মিনারটি করে দেয় আমার স্কুলটিতে।

    বিজয়নগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) কে.এম ইয়াসির আরাফাত বলেন, উপজেলার সব কটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার না থাকা সত্যিই দুঃখজনক ঘটনা।

    তিনি বলেন, উপজেলার ৯৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৫টিতে শহীদ মিনার রয়েছে। চলতি বছরে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে শহীদ মিনার নির্মাণের ব্যাপারে আলোচনা করা হবে। পর্যায়ক্রমে উপজেলার সরকারি সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণ করা হবে।

    জেলা প্রাথমিক অফিসার খোরশেদ আলম বলেন, বিদ্যালয় গুলোতে শহীদ মিনার নির্মাণে সরকারি কোন অর্থ বরাদ্দ নেই। আমরা নিজস্ব অর্থায়নে বিদ্যালয়গুলোতে শহীদ মিনার নির্মাণ করছি।

    তিনি বলেন, সম্প্রতি মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে একই ডিজাইনে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মানের জন্য। আমরা পর্যায়ক্রমে প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মাণ করবো।

    জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শফি উদ্দিন বলেন, আমি এই জেলায় নতুন এসেছি। পর্যায়ক্রমে জেলার সব কটি সরকারি, বেসরকারি কলেজ, উচ্চ ও নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং মাদরাসায় শহীদ মিনার নির্মাণ করা হবে।-রাইজিংবিডি

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

  • ফেসবুকে চিনাইরবার্তা.কম