• শিরোনাম

    ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিএনপির আন্দোলন ‘মোল্লা বাড়ি’ পর্যন্ত

    | বুধবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১

    ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিএনপির আন্দোলন ‘মোল্লা বাড়ি’ পর্যন্ত

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক সময় বিএনপির আধিপত্য ছিল। জেলার ছয়টি আসনের প্রায় সবগুলোতে নির্বাচন নিজেদের দখলে রেখেছিল। এখনো জেলার একটি নির্বাচনী আসন বিএনপির দখলে রয়েছে। কিন্তু বদলে যাওয়া প্রেক্ষাপটে নিজ দলীয় নেতারা এখন কোণঠাসা হয়ে আছেন। দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের এক ব্যক্তিগত সহকারীর ভাইয়ের প্রভাবে জেলা বিএনপির নেতারা পড়েছেন বেকায়দায়।

    শুধু জেলায় নয়, উপজেলা ও পৌর বিএনপির কমিটিগুলোতেও রয়েছে অসন্তোষ। এক উপজেলার নেতাকে আরেক উপজেলায় পৌর কমিটির নেতৃত্ব দেয়ারও ঘটনা ঘটেছে। এতে করে পদত্যাগও করেছেন লাগাতারভাবে।

    জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি নিয়ে শুরুতেই অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। মাঠের কর্মীদের আহবায়ক কমিটিতে না রেখে, রাখা হয়ে অনেকটা নিষ্ক্রিয়দের। ফলে দলীয় বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচিতে কিছুতেই কুলিয়ে উঠতে পারছে না ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপি। কেন্দ্রীয় ঘোষিত কর্মসূচি তারা জেলা শহরের দক্ষিণ মৌড়াইল ‘মোল্লা বাড়ি’ পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রেখেছেন।

    সর্বশেষ গত ১৪ ফেব্রুয়ারি জিয়াউর রহমানের খেতাব বাতিলের প্রতিবাদে বিক্ষোভে একই চিত্র দেখা মেলে। সেখানে দলের সাবেক সভাপতি হাফিজুর রহমান মোল্লার (কচি) বাসভবনকে জেলা বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয় হিসেবে বেছে নিয়েছে।

    তাই জেলা বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল মিটিং বা অন্য কোনো কর্মসূচি তারা এখানেই পালন করছেন। বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ মিছিলও শুরু থেকে শেষ করেন একই জায়গায়। তাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপি রাজনীতি ‘মোল্লা বাড়ি’ পর্যন্তই সীমাবদ্ধ রয়েছে। এছাড়া অন্য কোথাও কোনো কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায়নি দলের কাউকে।

    এ বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ফুজায়েল চৌধুরীর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘মোল্লা বাড়ি আমাদের অস্থায়ী কার্যালয়। আমরা সেখান থেকেই বিক্ষোভ মিছিল শুরু করলে প্রতিবারই বাধা দেয় পুলিশ। পুলিশ সদস্যরা জানায়, উপরের নির্দেশ আছে।’

    জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন দিলীপ এ বিষয়ে বলেন, ‘আমরা আন্দোলনে প্রতিবারই চেষ্টা করি মিছিল নিয়ে অগ্রসর হতে। কিন্তু পুলিশ বিভিন্ন অজুহাতে আমাদের বাধা দিচ্ছে। আমরা তো পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ করে আন্দোলন করতে পারব না। আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যেতে চাই।’

    জেলা যুবদলের সভাপতি শামীম মোল্লা বলেন, ‘আমাদের জেলা ও বিভিন্ন উপজেলায় যখন দলীয় নেতাকর্মীরা আন্দোলন করতে যায়, তখন পুলিশ বাধা দেয় এবং ভয়ভীতি দেখায়। এতে করে নেতাকর্মীদের মনে ভয়ভীতি ঢুকেছে। আমরা তাদের ভয়ভীতি দূর করতে ঘরোয়া প্রোগ্রাম করতেছি। সামনের দিনগুলোতে নেতাকর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে আন্দোলনে থাকবে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘স্থানীয় এমপির সরাসরি হস্তক্ষেপে আমাদের পুলিশ কোনো মিটিং-মিছিল করতে দিচ্ছে না। এরপরও আমরা তা করতে চেষ্টা করছি।

    ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ও বিজয়নগর আসনের নেতা ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামলকে বিভিন্ন মামলা দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া আসতে বাধা দেয়া হচ্ছে। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আসলে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তন হবে বলে বিশ্বাস করি।’

    এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জিল্লুর রহমান বলেন, ‘রাজনৈতিক আন্দোলনের কিছু কলাকৌশল আছে, সেই কলাকৌশলের কারণেই কিছু করছি না এখন। এরপরও আমাদের প্রোগ্রামগুলোতে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি মোটামুটি ভালো থাকে।’-জাগো নিউজ

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

  • ফেসবুকে চিনাইরবার্তা.কম