• শিরোনাম

    পূর্বাঞ্চলের সবচেয়ে বড় ধানের হাটে ক্রেতা সংকট

    | বৃহস্পতিবার, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২১

    পূর্বাঞ্চলের সবচেয়ে বড় ধানের হাটে ক্রেতা সংকট

    ভারত থেকে চাল আমদানির খবরে স্থবির হয়ে পড়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার ধানের হাট। শতবছরের পুরোনো এই হাটটি দেশের পূর্বাঞ্চলের সবচেয়ে বড় ধানের হাট।

    দিনে কয়েক কোটি টাকার ধান বেচাকেনা হয় এই হাটে। তবে মাস দুয়েক ধরে হাটে বেচাকেনা নেই বললেই চলে। মূলত ধানের দাম বৃদ্ধি এবং ভারত থেকে বেসরকারিভাবে চাল আমদানির কারণেই হাটের ব্যবসা অন্তত ৯৫ শতাংশ কমে গেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রায় ১০০ বছর আগে আশুগঞ্জ উপজেলার মেঘনা নদীর ভিওসি ঘাটে ধানের বেচাকেনা শুরু হয়। মূলত এই হাটটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও এর আশপাশের এলাকার হাওরাঞ্চলে উৎপাদিত ধানের মোকাম।

    এই হাটের ধান থেকে চাল তৈরি করে সরবরাহ করা হয় চট্টগ্রাম বিভাগ ও সিলেট বিভাগের সবকটি জেলায়। এছাড়া ঢাকা বিভাগের কয়েকটি জেলাতেও চাল যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার চালকলগুলো থেকে।

    হাট সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত হাটে ধান বেচাকেনা হয়। ভোর থেকেই ভিওসি ঘাটে ধানবোঝাই নৌকাগুলো ভিড়তে থাকে। ধানের মৌসুমে প্রতিদিন অন্তত এক লাখ মণ ধান বেচাকেনা হয় হাটে। যার বাজারমূল্য অন্তত ছয় কোটি টাকা।

    মৌসুম ছাড়া বাকি সময়গুলোতে বেচাকেনা অর্ধেকে নেমে যায়। ব্যাপারি ও আড়তদারদের হাতবদল হয়ে এসব ধান চলে যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সাড়ে ৩০০ চাতালকলে। শুধুমাত্র আশুগঞ্জ উপজেলাতেই আড়াইশ চাতালকল রয়েছে।

    তবে গত দুই মাস ধরে হাটের বেচাকেনা ৯৫ শতাংশ কমে গেছে। এখন গড়ে প্রতিদিন মাত্র পাঁচ হাজার মণ ধান বেচাকেনা হচ্ছে। ধানের দাম বৃদ্ধি এবং ভারত থেকে চাল আমদানির খবরে ক্রেতা সংকট দেখা দিয়েছে পূর্বাঞ্চলের সবচেয়ে বড় এই হাটে।

    চাতালকল মালিকরা বলছেন, ভারতীয় চালের দাম পর্যবেক্ষণ না করে তারা আর ধান কিনবেন না। কারণ ভারতীয় চাল বাজারে এলে চালের দাম আরও কমবে।

    বেসরকারিভাবে ১০ লাখ টন চাল আমদানির জন্য সরকার অনুমোদন দিয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা খাদ্য অধিদফতর।

    সম্প্রতি ধানের হাট ঘুরে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতি মণ বিআর ২৯ জাতের ধান বিক্রি হচ্ছে ১৩৭০-১৪০০ টাকা ও বিআর ২২ বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ১০০ টাকায় এবং প্রতি মণ বিআর ৪৯ জাতের ধান এক হাজার ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রত্যেক জাতের ধানের দাম গড়ে ২৫০-৩০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

    কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার ব্যাপারি রহিজ মিয়া জানান, কৃষকদের কাছ থেকেই ধান বেশি দাম দিয়ে কিনতে হচ্ছে। এর ফলে ধানের দাম কিছুটা বেড়েছে। ব্যাপারিদেরও লোকসান দিতে হচ্ছে। আর বেসরকারিভাবে ভারত থেকে চাল আমদানির খবরে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে হাটে। চাতালকল ব্যবসায়ীরা চাল কিনছেন কম।

    আশুগঞ্জ উপজেলার রজনীগন্ধা অ্যাগ্রো ফুডের মালিক হাসান ইমরান জানান, ধান কিনে চাল করতে গিয়ে লোকসানে পড়তে হচ্ছে। চাল বিক্রি করতে হচ্ছে লোকসানে। ভারতীয় চাল বাজারে আসার ওপর ধানের হাটের ব্যবসা নির্ভর করছে।

    এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আশুগঞ্জ উপজেলা চালকল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হেলাল শিকদার বলেন, বাজারে দুই হাজার ৫০০ টাকা দরে চাল বিক্রি করে আমাদের মিল মালিকদের লোকসান গুণতে হচ্ছে। ফলে আমরা বাধ্য হয়ে ৮০ শতাংশ চাতালকল বন্ধ রেখেছি। কারণ ভারতীয় চাল বাজারে আসলে আমাদের চালের দাম আরও কমে যাবে। সেজন্য লোকসানের ভয়ে কেউ আর ধান কিনছেন না।-জাগো নিউজ

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

  • ফেসবুকে চিনাইরবার্তা.কম