• শিরোনাম

    নবীনগরে ইউপি চেয়ারম্যানের অপসারণের দাবিতে কর্মসূচি চলছেই

    | মঙ্গলবার, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২১

    নবীনগরে ইউপি চেয়ারম্যানের অপসারণের দাবিতে কর্মসূচি চলছেই

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার কাইতলা (উত্তর) ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এস এম আসলাম মৃধার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এনে তাঁর অপসারণের দাবিতে এলাকায় বিক্ষুব্ধ লোকজনের নানা কর্সসূচি অব্যাহত রয়েছে। এ নিয়ে গত কয়েক দিন ধরেই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

    এদিকে উদ্ভুত পরিস্থিতিতে নবীনগরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) একরামুল ছিদ্দিক এ ঘটনায় গঠিত কমিটির তদন্ত কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে সোমবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

    জানা গেছে, মাদক সেবন, মাদক বিক্রি, আর্থিক অনিয়ম, এক নারী ইউপি সদস্যকে শারীরিকভাবে নির্যাতন, চরম স্বেচ্ছাচারিতাসহ বিভিন্ন সুনির্দিষ্ট অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে চেয়ারম্যান আসলাম মৃধার বিরুদ্ধে গত মঙ্গলবার জেলা প্রশাসক হায়াত উদ দৌলার কাছে লিখিত আবেদন করেন ওই ইউনিয়ন পরিষদেরই ১১ জন সদস্য।

    ওই আবেদনের অনুলিপি নবীনগরের ইউএনওসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরেও পাঠানো হয়। পরে এ নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনও করেন ওই ইউপি সদস্যরা।

    এরপর বিক্ষুব্ধ অভিযোগকারীরা গত রবিবার এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে স্থানীয় খেলার মাঠে চেয়ারম্যান আসলাম মৃধার দ্রুত অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। ওই মানববন্ধন থেকে চেয়ারম্যানকে ‘মাদকাসক্ত’ ও ‘দুর্নীতিবাজ’ আখ্যা দিয়ে ওই চেয়ারম্যানকে দ্রুত অপসারণের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে ফের জোর দাবি জানানো হয়।

    এ বিষয়ে আবেদনকারী ইউপি সদস্য আবদুল হাফেজ, বাছির মোল্লা ও লিপি বেগম বলেন, ‘চেয়ারম্যান আসলাম একজন চিহ্নিত মাদকাসক্ত ও দুর্নীতিবাজ। তাই তার দ্রুত অপসারণ চেয়ে তার বিরুদ্ধে নানা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনে আমরা সংবাদ সম্মেলন, মানববন্ধনসহ ডিসি ও ইউএনও স্যারের কাছে লিখিত আবেদন করেছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কর্মসূচি চলবেই।’

    এদিকে উদ্ভুত পরিস্থিতি সরজমিনে দেখতে কাইতলা এলাকায় আজ ছুটে যান নবীনগরের ইউএনও একরামুল ছিদ্দিক ও এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা অলি আহাদ চৌধুরী। সেখানে ইউপি সচিবের বিরুদ্ধেও নানা অভিযোগ তুলেন এলাকাবাসী।

    ঘটনাস্থল থেকে ঘুরে এসে ইউএনও একরামুল ছিদ্দিক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘উদ্ভুত পরিস্থিতিতে সোমবার ঘটনাস্থলে গিয়ে এলাকাবাসীসহ উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে এসেছি। এর আগে ডিসি স্যারের নির্দেশে এ ঘটনায় সমবায় কর্মকর্তার নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনও যথাসময়ে ডিসি স্যারের কাছে জমা দেওয়া হবে।’

    এ বিষয়ে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান আসলাম মৃধাকে গনমাধ্যমের পক্ষ থেকে বারবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

    তবে ইউএনও এ প্রতিবেদককে জানান, ‘সোমবার ঘটনাস্থলে পরিদর্শনে গেলে চেয়ারম্যান তাঁর (ইউএনও) কাছে এসব অভিযোগ ‘ষড়যন্ত্রমূলক’ ও ‘অসত্য’ বলে দাবি করে এসব অভিযোগের জবাব যথাসময়েই লিখিতভাবে তদন্ত কমিটির কাছে জমা দিবেন বলে আমাকে জানিয়েছেন।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

  • ফেসবুকে চিনাইরবার্তা.কম