• শিরোনাম

    চক্ষু সার্জন কবে আসবে?

    | মঙ্গলবার, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২১

    চক্ষু সার্জন কবে আসবে?

    অস্ত্রোপচার কক্ষ থেকে শুরু করে আধুনিক যন্ত্রপাতি সবই রয়েছে। তবু চোখের অস্ত্রোপচার হচ্ছে না ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে। দীর্ঘদিন ধরে সরকারি এ হাসপাতালটিতে চক্ষু বিশেষজ্ঞ সার্জন পদটি শূন্য হয়ে আছে। ফলে দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে হাসপাতালে চোখের অস্ত্রোপচার বন্ধ রয়েছে।

    কবে নাগাদ চক্ষু বিশেষজ্ঞ সার্জন পদায়ন এবং অস্ত্রোপচার শুরু হবে সে সম্পর্কে কোনো তথ্য দিতে পারেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল রোগীদের চিকিৎসার একমাত্র ভরসাস্থল ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতাল। ২৫০ শয্যার এই হাসপাতালটি সদর হাসপাতাল নামেই বেশি পরিচিত। ১৯৯২ সালে জেলা শহরের কুমারশীল মোড়ে প্রতিষ্ঠিত এই হাসপাতালটিতে প্রতিদিন গড়ে এক থেকে দেড় হাজার রোগী স্বাস্থ্য সেবা নেন।

    দিন দিন রোগী বাড়লেও সেবার মান বাড়াতে পারেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। দালালদের দৌরাত্ম্যের কারণে হাসপাতালে ঢুকেই নাজেহাল হতে হয় সাধারণ রোগীদের। এছাড়া আধুনিক সব যন্ত্রপাতি থাকার পরও রোগীরা কাঙ্ক্ষিত সেবা পান না বলে অভিযোগ রয়েছে।

    এদিকে দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে হাসপাতালের চক্ষু বিভাগের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। চক্ষু বিশেষজ্ঞ সার্জনের পদটি খালি থাকায় হাসপাতালে চোখের কোনো অস্ত্রোপচার হচ্ছে না। এতে করে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ রোগীদের।

    বিশেষ করে গরিব রোগীরা সবেচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। বেসরকারি ক্লিনিকে চোখের অস্ত্রোপচার করতে গিয়ে সর্বস্ব হারাতে হচ্ছে তাদের। অথচ এই হাসপাতালেই চক্ষু অস্ত্রোপচারের জন্য আধুনিক সকল যন্ত্রপাতি রয়েছে।

    চক্ষু বিশেষজ্ঞ সার্জন পদে সর্বশেষ দায়িত্ব পালন করেন ডা. ইয়ামলি খান। প্রায় আড়াই বছর আগে তিনি হাসপাতাল থেকে অন্যত্র বদলি হয়ে যান। এরপর থেকেই চক্ষু বিভাগের সকল কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে।

    তবে ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসের শেষ দিকে মাত্র এক সপ্তাহের জন্য চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও সার্জন মো. আলামিন দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনিও বদলি হয়ে যান।

    রমিজা খাতুন নামে এক বৃদ্ধা জানান, দীর্ঘদিন ধরে চোখে ছানি পড়ে আছে। বেসরকারি হাসপাতালে যাওয়ার পর ডাক্তার বলেছেন অস্ত্রোপচার করতে হবে। কিন্তু টাকার অভাবে তিনি অস্ত্রোপচার করাতে পারছেন না। দ্রুত সদর হাসপাতালে চক্ষু বিভাগ এবং চোখের অস্ত্রোপচার চালু করার দাবি জানান তিনি।

    হামিদ মিয়া নামে আরেক বৃদ্ধ জানান, সদর হাসপাতালে এসে চোখের ডাক্তার দেখাতে না পেরে ৫শ টাকা ভিজিট দিয়ে বেসরকারি ক্লিনিকে চোখের ডাক্তার দেখিয়েছেন। ডাক্তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বলেছেন চোখে ছানি পড়েছে, অস্ত্রোপচার করতে হবে। কিন্তু তিনিও টাকার জন্য অস্ত্রোপচার করাতে পারেননি।

    এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. শওকত হোসেন বলেন, চক্ষু বিশেষজ্ঞ সার্জনের জন্য আমরা দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট দফতরে চিঠি চালাচালি করেছি। কিন্তু বিষয়টি এখনও পর্যন্ত কোনো সুরাহা হয়নি।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

  • ফেসবুকে চিনাইরবার্তা.কম