• শিরোনাম

    আগ্রহ বাড়ছে টিকায়, দ্বিতীয় দিনে সাড়ে ৪৬ হাজার

    | মঙ্গলবার, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২১

    আগ্রহ বাড়ছে টিকায়, দ্বিতীয় দিনে সাড়ে ৪৬ হাজার

    দেশব্যাপী কার্যক্রম শুরুর দ্বিতীয় দিনে করোনার টিকা নেয়া মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। শুরুর দিকে যারা টিকার ব্যাপারে অনাগ্রহ দেখাতেন তারাও কীভাবে কোথায় টিকা দেয়া যায় এর খোঁজ নিচ্ছেন। পরিসংখ্যানও বলছে, দেশব্যাপী কার্যক্রম শুরুর দ্বিতীয় দিনে প্রথম দিনের চেয়ে প্রায় ১৪ হাজার বেশি মানুষ টিকা নিয়েছেন।

    প্রথম দিনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ৩১ হাজার ১৬০ জন টিকা নিলেও সোমবার টিকা নিয়েছেন ৪৬ হাজার ৫১০ জন। টিকা নেয়ার পর ৯২ জনের শরীরে পার্শ্বপ্রতিপ্রক্রিয়া দেখা দিলেও সবাই সুস্থ আছেন বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়েছে। প্রথম দিনে ২১ জনের শরীরে সামান্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছিল।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে দেয়া তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত সারাদেশে টিকা নেয়ার জন্য পাঁচ লাখ ৯২ হাজার পাঁচজন রেজিস্ট্রেশন করেছেন।

    তবে টিকা নিতে অনলাইন নিবন্ধনের ‘সুরক্ষা অ্যাপে’র সার্ভারে সমস্যার কারণে অনেকে রেজিস্ট্রেশন করতে গিয়ে বিড়ম্বনায় পড়ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

    প্রথম দিনের মতো সোমবার ঢাকা বিভাগে বেশি লোক টিকা নিয়েছেন। এই বিভাগে ১২ হাজার ৮২২ জন, ময়মনসিংহে দুই হাজার ৩৯৪, চট্টগ্রামে ১০ হাজার ৪৮০ জন, রাজশাহীতে পাঁচ হাজার ৬৪২ জন, রংপুরে পাঁচ হাজার ৫০৩ জন, খুলনায় চার হাজার ১৭০ জন, বরিশালে এক হাজার ৫৪৪ ও সিলেট বিভাগে তিন হাজার ৯৪৫ জন টিকা নিয়েছেন।

    এদিকে আজও রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালের টিকাদান কেন্দ্রে সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তি ও কর্মকর্তারা টিকা নিয়েছেন। গণমাধ্যমের একাধিক সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিকরাও টিকা নিয়েছেন।

    বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেলের কেন্দ্রে সকালে টিকা নেন দৈনিক মানবজমিন পত্রিকার প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী এবং তার স্ত্রী।

    সবাইকে টিকা নেয়ার পরামর্শ দিয়ে মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষার জন্য টিকার বিকল্প নেই। আমরা যারা সংবাদমাধ্যমে কাজ করি, তাদের টিকা নেয়া জরুরি। টিকা নিতে হবে সবাইকেই। আমি টিকা নিলাম, আর আপনি নিলেন না, তাতে কিন্তু আমরা নিরাপদ ভাবতে পারি না।’

    অন্যদিকে নানা আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেও টিকা নিতে মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। করোনার সংক্রমণের হারও কমতে শুরু করেছে। তারপরও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবাইকে টিকা নেয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার নির্দেশনা দিয়েছেন।

    দ্বিতীয় দিন সোমবার সকাল ৮টা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত টিকা দেয়া হয়। করোনাভাইরাস মোকাবেলার সম্মুখযোদ্ধাদের সঙ্গে বয়সে প্রবীণ ও মুক্তিযোদ্ধাসহ কয়েকটি শ্রেণির নাগরিকরা প্রথম দিকে টিকা পাচ্ছেন। হাসপাতাল ও টিকাদান কেন্দ্র ঘুরে উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়েই মানুষকে টিকা নিতে দেখা গেছে।

    এদিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে আটটি বুথ থেকে করোনাভাইরাসের টিকা দেয়া হয়। নারীদের জন্য রাখা হয় আলাদা বুথ। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মুহাম্মদ রফিকুল আলম বলেন, ‘আজকে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। সবাই সুশৃঙ্খলভাবে টিকা নিচ্ছে। অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তি, ডায়াবেটিস রোগী টিকা নেয়ায় মানুষের মাঝে ভয় ও জড়তা কেটে গেছে। প্রতি বুথে ১৫০ জন করে আটটি বুথে ১২০০ জনকে টিকা দেয়ার প্রস্তুতি আছে। রেজিস্ট্রেশনের জন্য আলাদা বুথ আছে। স্বেচ্ছাসেবকরা শৃঙ্খলা বজায় রাখছে। ভ্যাকসিন নেয়ার পর বিশ্রামের ব্যবস্থা আছে।’

    সোমবার সকালে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা টিকা নিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে। টিকা নেয়ার পর প্রতিক্রিয়ায় সিইসি বলেন, ‘উৎসবমুখর পরিবেশে করোনার টিকা নিতে পেরে খুবই ভালো লাগছে। টিকা নেয়ার পর আধাঘণ্টা বিশ্রামে ছিলাম, আমার কোনো সমস্যা হয়নি।’ ভোটারদের উদ্দেশ্যে সিইসি বলেন, ‘প্রত্যেক ভোটারদের কাছে আমার অনুরোধ, আপনারা নিজ নিজ এলাকায় টিকা নিন। টিকা করোনা থেকে সুরক্ষার অত্যন্ত ফলপ্রসূ উপায়।’

    রাজধানীর শ্যামলী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট বক্ষব্যাধী হাসপাতালে করোনার টিকার প্রথম ডোজ গ্রহণ করেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। টিকা নেয়ার পর খাদ্যমন্ত্রী কিছুক্ষণ অপেক্ষা করেন। টিকা নেয়ার পর এখন পর্যন্ত তিনি শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন।

    টিকা নেয়ার পর প্রতিক্রিয়ায় খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, ‘টিকা নেয়ার পর আমি সম্পূর্ণ সুস্থ আছি। জনগণকে ভ্যাকসিন সম্পর্কে অভয় দিতে আমরা মন্ত্রীরা আগে ভ্যাকসিন গ্রহণ করলাম। অপপ্রচারকারীরা যেন নেতিবাচক অপপ্রচার চালাতে না পারে এজন্যই আমরা আগে টিকা গ্রহণ করছি। জনগণকে বলতে চাই, আমি আগে টিকা নিলাম এবং ভালো আছি। এখন সবাই টিকা নিন।’

    এদিকে বিএসএমএমইউতে টিকা নিয়েছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। টিকা নেয়ার পর প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ বলেন, ‘জীবনে অনেক টিকা নিয়েছি। করোনার এ টিকাও আলাদা কিছু না। আমি এখন মহামারি করোনা ফ্লু মুক্ত; এটা আমার বিশ্বাস। সবাইকে টিকা নিতে হবে।’

    এদিকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে সস্ত্রীক টিকা নিয়েছেন পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম।

    এছাড়াও সাবেক শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া বিএসএমএমইউতে, সচিবালয় ক্লিনিকে বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দীন, সরকারি কর্মচারী হাসপাতালে নৌ পরিবহণ সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী, বিএসএমইউতে নির্বাচন কমিশন সচিব মো. হুমায়ুন কবির খোন্দকার টিকা নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

    সুএঃ ঢাকা টাইমস

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

  • ফেসবুকে চিনাইরবার্তা.কম