• শিরোনাম

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অধ্যক্ষ আবদুন নূরের স্মরণসভা

    | শুক্রবার, ০৮ জানুয়ারি ২০২১

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অধ্যক্ষ আবদুন নূরের স্মরণসভা

    ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও ইংরেজি বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক আবদুন নূরের প্রয়াণে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে কলেজের ইংরেজি বিভাগে ইংলিশ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন এই স্মরণসভার আয়োজন করেন।

    এতে সভাপতিত্ব করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক শাহ আলম। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বিভূতিভূষণ দেবনাথ। বিশেষ অতিথি ছিলেন নরসিংদী মহিলা কলেজর ইংরেজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক আবু হানিফা।

    স্মরণসভায় বক্তারা আবদুন নূরের স্মৃতিচারণা করে বলেন, আবদুন নূর ইংরেজি বিভাগের প্রতিষ্ঠাকালীন শিক্ষক ছিলেন। তিনি একজন প্রতিভাবান শিক্ষক ছিলেন। তিনি একই সঙ্গে লেখক, নাট্যকার ও অনুবাদক ছিলেন। অবসরকালীন তিনি সাত-আটটি বই লিখেছেন, যা অনেক প্রশংসিত হয়েছে। তিনি নিভৃতচারী ছিলেন।

    গত ২৯ ডিসেম্বর ভোরে জেলার দক্ষিণ মৌড়াইলের নিজ বাসায় অধ্যাপক আবদুন নূর মারা যান। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। ২৯ ডিসেম্বর দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজসংলগ্ন নিয়াজ মুহাম্মদ উচ্চবিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে দক্ষিণ মৌড়াইল কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
    বিজ্ঞাপন

    অধ্যাপক শাহ আলম বলেন, ইংরেজি সাহিত্যের কবি রবার্ট ব্রাউনিংয়ের লেখা ‘আ গ্রামারিয়ান ফিউনারেল’-এ দেখিয়েছেন কীভাবে তাঁর শিষ্যরা গ্রামারিয়ানের লাশ বহন করে নিয়ে যাচ্ছেন। গ্রামারিয়ান তাঁর শিষ্যদের কাছে খুব জনপ্রিয় ছিলেন। শিষ্যরা গ্রামারিয়ানকে সমতল ভূমির কোথাও সমাহিত না করে যথাযোগ্য স্থানে পাহাড়ের সর্বোচ্চ চূড়ায় সমাহিত করেন। আজকের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সেটিই প্রমাণ করেছেন।

    অধ্যাপক আবু হানিফা বলেন, গৃহপালিত পশুর জন্মের পর তার পশুত্ব প্রমাণ করতে হয় না। কিন্তু মানুষকে মনুষ্যত্ব অর্জন করতে হয়। মানুষকে সঠিক কাজে পরিচালিত করে বিবেক ও অন্তরাত্মা। যখন সময় আসবে, চলে যেতে হবে। থেকে যাবে কর্ম। তাই ভালো কাজ করতে হবে। তবেই চলে যাওয়ার পর আবদুন নূর স্যারের মতো স্মরণ করবে সবাই।

    ইংরেজি সাহিত্যের কবি রবার্ট ব্রাউনিংয়ের লেখা ‘আ গ্রামারিয়ান ফিউনারেল’-এ দেখিয়েছেন কীভাবে তাঁর শিষ্যরা গ্রামারিয়ানের লাশ বহন করে নিয়ে যাচ্ছেন। শিষ্যরা গ্রামারিয়ানকে সমতল ভূমির কোথাও সমাহিত না করে যথাযোগ্য স্থানে পাহাড়ের সর্বোচ্চ চূড়ায় সমাহিত করেন। আজকের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সেটিই প্রমাণ করেছেন।
    শাহ আলম, ইংরেজি বিভাগের প্রধান
    স্মরণসভায় আবদুন নূরের আত্মার মাগফিরাতের জন্য মোনাজাত পড়া হয়। মোনাজাত শেষে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে তবারক বিতরণ করা হয়।

    এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক আবদুল ওয়াহেদ, হামজা মাহমুদ, বাংলা বিভাগের প্রধান নূর মোহাম্মদ, রামগঞ্জ সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ইউসুফ ওসমান হারুন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আবদুল খালেক, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তারেকুল ইসলাম, ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক নাজমুল হাসান সালেহ প্রমুখ।

    অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সরকারি আদর্শ কলেজ, সৈয়দাবাদের প্রভাষক ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক এস আর এম ওসমান গণি। এ সময় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ইংলিশ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি জামাল উদ্দিন, মারুফ হাজারী, সাধারণ সম্পাদক ও প্রথম আলোর ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি শাহাদৎ হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তাক আহমেদ ও রাকিবা নিপা, সদস্য নাজমুল ইসলাম ও মাসুক হৃদয় প্রমুখ। স্মরণসভায় আবদুন নূরের আত্মার মাগফিরাতের জন্য মোনাজাত করেন কলেজের ইংরেজি বিভাগের অতিথি শিক্ষক মোশারফ হোসেন। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে ইংরেজি বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ও বর্তমানে অধ্যয়নরত বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

    গত ২৯ ডিসেম্বর ভোরে জেলার দক্ষিণ মৌড়াইলের নিজ বাসায় অধ্যাপক আবদুন নূর মারা যান। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। তিনি নবীনগর উপজেলার বীটঘর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তবে তিনি পরিবার নিয়ে জেলা শহরের মৌড়াইল এলাকায় বসবাস করতেন। ২৯ ডিসেম্বর বেলা দুইটায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজসংলগ্ন নিয়াজ মুহাম্মদ উচ্চবিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে দক্ষিণ মৌড়াইল কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।-প্রথম আলো

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

  • ফেসবুকে চিনাইরবার্তা.কম