• শিরোনাম

    ৩৫ হাজার কৃষকের স্বপ্ন তছনছ

    | বুধবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২০

    ৩৫ হাজার কৃষকের স্বপ্ন তছনছ

    বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত পানি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যবহার করা হয় সেচকাজে। খরচ খুব কম, সুবিধা বেশি। প্রকল্পটির নাম আশুগঞ্জ-পলাশ অ্যাগ্রো ইরিগেশন। তবে কৃষকের কাছে সেটা সবুজ প্রকল্প হিসেবে পরিচিত।

    ১৯৯৯ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সফরকালে প্রকল্পটি সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতিও দেন।

    তবে সড়ক উন্নয়নে সেই প্রকল্পটি ভেস্তে যেতে চলেছে। এতে স্বপ্নভঙ্গ হবে প্রায় ৩৫ হাজার কৃষকের। সেচ সংকটে পড়বে ১৬ হাজার হেক্টর (এক লাখ ২০ হাজার বিঘা) জমি। উৎপাদন কমবে ৭০ হাজার টন ধানের। ২০ কোটি টাকার জ্বালানি সাশ্রয়ে ঘটবে ব্যাঘাত।

    প্রকল্পটির অবস্থান ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে। আশুগঞ্জ নদীবন্দর-সরাইল-ধরখার-আখাউড়া (আগরতলা পর্যন্ত বিস্তৃত) স্থলবন্দর মহাসড়ক চার লেন জাতীয় মহাসড়কে উন্নীতকরণ প্রকল্পের নকশায় পড়েছে এই প্রকল্পটি। অবশ্য সেটি রক্ষায় সরকারিভাবে একাধিক উদ্যোগও নেওয়া হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রকল্পের অংশে ভরাট কাজও শুরু হয়েছে।

    এ অবস্থায় সেচ ব্যবস্থাপনা ঠিক রেখে মহাসড়ক উন্নয়নের দাবিতে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখা। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের আশুগঞ্জ গোলচত্বর এলাকায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে স্থানীয় কৃষক ও কৃষি শ্রমিকরা অংশ নেন।

    জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি অ্যাডভোকেট কাজী মাসুদ আহমেদের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক আবু সাইদ খান, জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, জেলা যুবমৈত্রীর সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. নাছির, বাংলাদেশ জাসদের সাংগঠনিক সম্পাদক হোসাইন মো. তফছির, আশুগঞ্জ উপজেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক দ্বিজেন ঘোষ, উপজেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সদস্য কাজী তানবীর মাহমুদ প্রমুখ। এ সময় আগামী ৩ জানুয়ারি ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সরাইল উপজেলার শান্তিনগরে কৃষক সমাবেশের কর্মসূচির ঘোষণা করা হয়।

    এর আগে রবিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন দিয়েছে জাতীয় কৃষক সমিতি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখা। সমিতির আহ্বায়ক মো. নাছির মিয়া, সদস্য অ্যাডভোকেট মো. নাছির, অ্যাডভোকেট কাজী মাসুদ আহমেদ স্বাক্ষরিত ওই স্মারকলিপিতে প্রয়োজনে ভূমি অধিগ্রহণ করে প্রকল্পটি সচল রাখার জন্য অনুরোধ করা হয়।

    একাধিক সূত্রে জানা যায়, আশুগঞ্জ ও ঘোড়াশালের তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কুলিং সিস্টেমের জন্য মেঘনা নদী থেকে পানি উত্তোলন করে ব্যবহারের পর আবার মেঘনা নদীতে ফেলে দেওয়া হতো। ১৯৭৫ সালে ওই পানি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সেচকাজে ব্যবহারের প্রকল্প তৈরি করা হয়। এতে সুফল পাওয়া গেলে ১৯৭৮-১৯৭৯ সালে বিএডিসি এই প্রকল্পের আরো সম্প্রসারণ করেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর, আশুগঞ্জ, সরাইল ও নবীনগর উপজেলার প্রায় ৩৫ হাজার কৃষকের ১৬ হাজার হেক্টর জমিতে এ প্রকল্পের মাধ্যমে সেচ সুবিধা দেওয়া হয়। এতে কৃষকদের খরচও কম হয়।

    এ প্রকল্পের প্রধান সেচ খাল হিসেবে ব্যবহার করা হতো ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশের বরোপিটকে। এ ছাড়া বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের একটি পুকুরকে সংরক্ষণাগার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল।

    মহাসড়কের উন্নয়নকাজের জন্য খালটি ভরাট করে ফেলা হচ্ছে। এ ছাড়া এরই মধ্যে পুকুরটিও ভরাট করে ফেলেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

    জাতীয় কৃষক সমিতি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট কাজী মাসুদ আহমেদ ও অ্যাডভোকেট মো. নাছির জানান, নকশা পরিবর্তন করে এই সেচ প্রকল্প রক্ষা করা সম্ভব।

    এ বিষয়ে আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অরবিন্দ বিশ্বাস বলেন, সেচ প্রকল্প নিয়ে বুধবার সকাল ১১টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক সভা ডেকেছেন। সবুজ প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ওই সভায় উপস্থিত থাকবেন।

    এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খানের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। গতকাল বিকেলে তাঁর মোবাইল ফোনে কল করা হলে রিসিভ না করে ফোন কেটে দিয়ে লিখে পাঠাতে বার্তা দেন। পরে বার্তা দিলেও বিকেল ৫টা নাগাদ কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।-কালের কণ্ঠ

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

  • ফেসবুকে চিনাইরবার্তা.কম