• শিরোনাম

    সরকারী নির্দেশনা উপেক্ষা করে কর্মস্থলের বাইরে নির্বাহী প্রকৌশলী -টাকা ছাড়া কাজ হয়না আশুগঞ্জ বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগে

    চিনাইরবার্তা.কম বাবুল সিকদারঃ | বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২০

    সরকারী নির্দেশনা উপেক্ষা করে কর্মস্থলের বাইরে নির্বাহী প্রকৌশলী -টাকা ছাড়া কাজ হয়না আশুগঞ্জ বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগে

    লকডাউন সময়ে সরকারী অফিসের কোন কর্মকর্তা কিংবা কর্মচারী তার অফিস এলাকা ত্যাগ না করার নির্দেশনা থাকলেও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম ৯ দিন যাবত অফিসে আসছেন না। যোগদানের পর থেকেই তিনি অফিস করেন না নিয়মিতভাবে। এসব বিষয়ে প্রশ্ন করতে গেলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে যান সাংবাদিকদের সাথে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে রয়েছে ঘুষ নিয়ে কাজ করার অভিযোগ। পাশাপাশি ঝড়ের কারনে কোন ট্রান্সমিটার নষ্ট হলে প্রতি ট্রান্সমিটারে ২০ হাজার টাকা করে নিয়ে নতুন ট্রান্সমিটার লাগায় তিনি। কোন কিছুর তোয়াক্কা না করে গ্রাহকদের হয়রানী করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
    আশুগঞ্জ বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ ও এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, চলতি বছরের ২৩ মার্চ বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের অশুগঞ্জ কার্যালয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে যোগদান করেন মো. জাহাঙ্গীর আলম। যোগদানের পর থেকেই নানান অনিয়মের সাথে যুক্ত হয় তিনি। টাকা ছাড়া কোন কাজ হয়না তার টেবিলে। নতুন মিটার লাগানো, ট্রান্সমিটার প্রতিস্থাপনসহ সকল কাজেই তাকে দিতে হয় টাকা। উপজেলার বিভিন্ন রাইসমিলের নতুন সংযোগে প্রতি কিলোওয়াটের জন্য তাকে এক হাজার করে টাকা দিতে হয়।
    নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলার কয়েকজন রাইসমিল মালিক জানান, নতুন কোন বাণিজ্যিক মিটার নিতে চাইলে তাকে কিলোওয়াট প্রতি এক হাজার করে টাকা দিতে হয় তাকে। এছাড়াও গত ২০ মে রাতে উপজেলার আলমনগর এলাকায় সরকার রাইসমিলের সামনে একটি ট্রাক ঘুরাতে গিয়ে ট্রান্সফরমারের খুটিতে লেগে যায়। এসময় ট্রান্সফরমারের বুশিং ভেংগে সামান্য ক্ষতি হয়। এনিয়ে বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের লোকজন এসে ট্রাকটি সহ অফিসে নিয়ে যেতে চায়। পরে গরীব ট্রাক চালক টাকা দিতে দেরী করায় উপজেলাসহ আড়াইসিধা, যাত্রাপুর, তারুয়া এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না ১৮ ঘন্টা। পরে এলাকার লোকজনের মাধ্যমে ২০ হাজার টাকা নিয়ে বিষয়টি মোবাইল ফোনে সুরাহা করেন নির্বাহী প্রকৌশলী।
    অন্যদিকে আশুগঞ্জ বিদ্যুতের শহর হলেও সামান্য বৃষ্টি হলেই উপজেলা থাকে অন্ধকারে। ঘন্টার পর ঘন্টা থাকে না বিদ্যুৎ। কাজের অযুহাতে বন্ধ করে রাখা হয় সকল এলাকার নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ। এসব বিষয়ে বিতরণ বিভাগের অভিযোগের জন্য দেয়া মোবাইল ফোনে অভিযোগ করেও কোন ফল পাওয়া যায়না। এবং অনেক সময় মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়।
    এদিকে উপজেলার আড়াইসিধা ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের একটি ট্রান্সমিটার গত ২৭ তারিখ রাতে কোন কারন ছাড়াই নষ্ট হয়ে যায়। এনিয়ে তাদের সাথে যোগাযাগ করা হলে নির্বাহী প্রকৌশলী ২০ হাজার টাকা দাবি করেন এলাকাবসীর কাছে। টাকা তুলে তার কাছে পাঠাতে দেরী হওয়ায় ২৯ তারিখ সকালে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নতুন ট্রান্সমিটার লাগানো হয়নি। এতে করে এই এলাকার লোকজন দূর্ভোগে পড়েছেন।

    আড়াইসিধা এলাকার মো. নাঈম জানান, ট্রান্সমিটার সমস্যা হওয়ার পর আমরা নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে মোবাইলে কথা বলি। পরে তার কথামত আমরা এলাকার লোকজনের কাছ থেকে টাকা তুলে নিয়ে যাই। কিছু টাকা কম হওয়ার কারনে তারা আমাদের ফিরিয়ে দেয়। এরপর একজন জনপ্রতিনিধি দিয়ে কল করালেও কোন সুরাহা হয়নি। এই এলাকার লোকজন মারাত্মক দূর্ভোগে রয়েছেন।
    এদিকে ২১ মে (বৃহস্পতিবার) থেকে নিজ অফিসে অনুপস্থিত রয়েছেন বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম। কয়েকবার তার অফিসে গিয়েও তার দেখা পাওয়া যায়নি। অফিসের কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা যায় তিনি ২১ মে থেকে অফিসে এক মিনিটের জন্যও আসেননি।
    নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিতরণ বিভাগের একাধীক লোকজন জানায়, গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে নির্বাহী প্রকৌশলী অফিসে আসছেন না। এতে করে গুরুত্বপূর্ণ এই অফিসের বিভিন্ন কাজ জমে আছে। পাশাপাশি তিনি যোগদানের পর থেকেই তার ব্যবহারে অতিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
    সরেজমিনে আশুগঞ্জ বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের অফিসে একাধীকবার গিয়েও নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলমকে পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে তার সাথে কথা বললে তিনি সকল অভিযোগের বিষয়ে সাংবাদিকদের কাছে প্রমান চান। প্রমান আছে বলতেই তিনি এই প্রতিবেদকের সাথে ক্ষিপ্ত হয়ে যায়। তিনি অফিসে আছেন কিনা জানতে চাইলে সাংবাদিকদের এই কথা জানার অধিকার নাই বলে তিনি ফোনটি কেটে দেয়।
    এসব বিষয়ে আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নাজিমুল হায়দারের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, সরকারী নির্দেশনা উপেক্ষা করে কোন অফিসার কর্মস্থলে না আসলে খোঁজ নিয়ে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
    সরকারী নির্দেশনা উপক্ষো করে কর্মস্থলের বাইরে নির্বাহী প্রকৌশলী -টাকা ছাড়া কাজ হয়না আশুগঞ্জ বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগে
    বাবুল সিকদার,আশুগঞ্জ (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)প্রতিনিধি::লকডাউন সময়ে সরকারী অফিসের কোন কর্মকর্তা কিংবা কর্মচারী তার অফিস এলাকা ত্যাগ না করার নির্দেশনা থাকলেও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম ৯ দিন যাবত অফিসে আসছেন না। যোগদানের পর থেকেই তিনি অফিস করেন না নিয়মিতভাবে। এসব বিষয়ে প্রশ্ন করতে গেলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে যান সাংবাদিকদের সাথে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে রয়েছে ঘুষ নিয়ে কাজ করার অভিযোগ। পাশাপাশি ঝড়ের কারনে কোন ট্রান্সমিটার নষ্ট হলে প্রতি ট্রান্সমিটারে ২০ হাজার টাকা করে নিয়ে নতুন ট্রান্সমিটার লাগায় তিনি। কোন কিছুর তোয়াক্কা না করে গ্রাহকদের হয়রানী করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
    আশুগঞ্জ বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ ও এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, চলতি বছরের ২৩ মার্চ বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের অশুগঞ্জ কার্যালয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে যোগদান করেন মো. জাহাঙ্গীর আলম। যোগদানের পর থেকেই নানান অনিয়মের সাথে যুক্ত হয় তিনি। টাকা ছাড়া কোন কাজ হয়না তার টেবিলে। নতুন মিটার লাগানো, ট্রান্সমিটার প্রতিস্থাপনসহ সকল কাজেই তাকে দিতে হয় টাকা। উপজেলার বিভিন্ন রাইসমিলের নতুন সংযোগে প্রতি কিলোওয়াটের জন্য তাকে এক হাজার করে টাকা দিতে হয়।
    নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলার কয়েকজন রাইসমিল মালিক জানান, নতুন কোন বাণিজ্যিক মিটার নিতে চাইলে তাকে কিলোওয়াট প্রতি এক হাজার করে টাকা দিতে হয় তাকে। এছাড়াও গত ২০ মে রাতে উপজেলার আলমনগর এলাকায় সরকার রাইসমিলের সামনে একটি ট্রাক ঘুরাতে গিয়ে ট্রান্সফরমারের খুটিতে লেগে যায়। এসময় ট্রান্সফরমারের বুশিং ভেংগে সামান্য ক্ষতি হয়। এনিয়ে বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের লোকজন এসে ট্রাকটি সহ অফিসে নিয়ে যেতে চায়। পরে গরীব ট্রাক চালক টাকা দিতে দেরী করায় উপজেলাসহ আড়াইসিধা, যাত্রাপুর, তারুয়া এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না ১৮ ঘন্টা। পরে এলাকার লোকজনের মাধ্যমে ২০ হাজার টাকা নিয়ে বিষয়টি মোবাইল ফোনে সুরাহা করেন নির্বাহী প্রকৌশলী।
    অন্যদিকে আশুগঞ্জ বিদ্যুতের শহর হলেও সামান্য বৃষ্টি হলেই উপজেলা থাকে অন্ধকারে। ঘন্টার পর ঘন্টা থাকে না বিদ্যুৎ। কাজের অযুহাতে বন্ধ করে রাখা হয় সকল এলাকার নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ। এসব বিষয়ে বিতরণ বিভাগের অভিযোগের জন্য দেয়া মোবাইল ফোনে অভিযোগ করেও কোন ফল পাওয়া যায়না। এবং অনেক সময় মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়।
    এদিকে উপজেলার আড়াইসিধা ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের একটি ট্রান্সমিটার গত ২৭ তারিখ রাতে কোন কারন ছাড়াই নষ্ট হয়ে যায়। এনিয়ে তাদের সাথে যোগাযাগ করা হলে নির্বাহী প্রকৌশলী ২০ হাজার টাকা দাবি করেন এলাকাবসীর কাছে। টাকা তুলে তার কাছে পাঠাতে দেরী হওয়ায় ২৯ তারিখ সকালে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নতুন ট্রান্সমিটার লাগানো হয়নি। এতে করে এই এলাকার লোকজন দূর্ভোগে পড়েছেন।

    আড়াইসিধা এলাকার মো. নাঈম জানান, ট্রান্সমিটার সমস্যা হওয়ার পর আমরা নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে মোবাইলে কথা বলি। পরে তার কথামত আমরা এলাকার লোকজনের কাছ থেকে টাকা তুলে নিয়ে যাই। কিছু টাকা কম হওয়ার কারনে তারা আমাদের ফিরিয়ে দেয়। এরপর একজন জনপ্রতিনিধি দিয়ে কল করালেও কোন সুরাহা হয়নি। এই এলাকার লোকজন মারাত্মক দূর্ভোগে রয়েছেন।
    এদিকে ২১ মে (বৃহস্পতিবার) থেকে নিজ অফিসে অনুপস্থিত রয়েছেন বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম। কয়েকবার তার অফিসে গিয়েও তার দেখা পাওয়া যায়নি। অফিসের কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা যায় তিনি ২১ মে থেকে অফিসে এক মিনিটের জন্যও আসেননি।
    নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিতরণ বিভাগের একাধীক লোকজন জানায়, গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে নির্বাহী প্রকৌশলী অফিসে আসছেন না। এতে করে গুরুত্বপূর্ণ এই অফিসের বিভিন্ন কাজ জমে আছে। পাশাপাশি তিনি যোগদানের পর থেকেই তার ব্যবহারে অতিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
    সরেজমিনে আশুগঞ্জ বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের অফিসে একাধীকবার গিয়েও নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলমকে পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে তার সাথে কথা বললে তিনি সকল অভিযোগের বিষয়ে সাংবাদিকদের কাছে প্রমান চান। প্রমান আছে বলতেই তিনি এই প্রতিবেদকের সাথে ক্ষিপ্ত হয়ে যায়। তিনি অফিসে আছেন কিনা জানতে চাইলে সাংবাদিকদের এই কথা জানার অধিকার নাই বলে তিনি ফোনটি কেটে দেয়।
    এসব বিষয়ে আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নাজিমুল হায়দারের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, সরকারী নির্দেশনা উপেক্ষা করে কোন অফিসার কর্মস্থলে না আসলে খোঁজ নিয়ে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

  • ফেসবুকে চিনাইরবার্তা.কম