• শিরোনাম

    সরাইল উপজেলার অরুয়াইল ইউনিয়নের রাণীদিয়া গ্রামে দু’দলের টেটা যুদ্ধ

    চিনাইরবার্তা.কম আরিফুল ইসলাম, সরাইল : | শুক্রবার, ১৫ মে ২০২০

    সরাইল উপজেলার অরুয়াইল ইউনিয়নের রাণীদিয়া গ্রামে দু’দলের টেটা যুদ্ধ

    এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও পুর্ব শত্রুতাকে কেন্দ্র করে গ্রামবাসীর দু’দলের সম্মুখ টেটা যুদ্ধ হয়েছে দীর্ঘ সময় ধরে। এসময়ে স্থানীয় অরুয়াইল পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা যথাসময়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছলেও তারা ছিলেন নীরব দর্শক।

    সেখানকার দু’দলের সম্মুখ টেটা যুদ্ধ অন্যান্যদের সাথে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করতে যাওয়া পুলিশ সদস্যরাও খুব কাছ থেকে উপভোগ করেছেন সাধারণ দর্শকের মতো। এমন চিত্রই দেখা গেছে স্থানীয় এক সংবাদকর্মীর করা সেই টেটা যুদ্ধের ভিডিও চিত্রধারণে। ইতোমধ্যে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। অনেকে এ নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করছে এবং সেই সময়ে উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ।

    জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার অরুয়াইল ইউনিয়নের রানীদিয়া গ্রামে বৃহস্পতিবার এ টেটা যুদ্ধের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানান, খবর পেয়ে অরুয়াইল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই হোসাইন মোহাম্মদ কামরুজ্জামান প্রথমে পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছেন। কিন্তু তিনিসহ তার নেতৃত্বে সেখানে যাওয়া পুলিশ সদস্যরা নীরবে দাঁড়িয়ে থেকে দু’দলের সম্মুখ টেটা যুদ্ধ শুধু অবলোকন করেছেন তারা। পরে সরাইল থানা থেকে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়। সেই টেটা যুদ্ধে অন্তত ৪০ জন মানুষ আহত হন।

    অরুয়াইল ইউপি চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন ভুঁইয়া জানান, বৃহস্পতিবার রাণীদিয়া গ্রামে সেই সংঘর্ষ টানা দুই ঘন্টা পর্যন্ত চলে। খবর পেয়ে অরুয়াইল ফাঁড়ির পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে যায়।

    অরুয়াইল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই কামরুজ্জামান গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, রাণীদিয়া গ্রামের সেই সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ৩ রাউন্ড টিয়ার সেল ও ৩৮ রাউন্ড রাবার বুলেট ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে সেই এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

    শুক্রবার বিকেলে ফেসবুকে ভাইরাল পুলিশের উপস্থিতিতে সেই সম্মুখ টেটা যুদ্ধের ভিডিও পোস্টে দেখা যায়, মাত্র ১৫ ঘন্টায় এতে লাইক পড়েছে পাঁচ হাজারের বেশি। ভিডিওটি শেয়ার হয়েছে ১৫ হাজারের অধিক। এতে কমেন্ট করেছেন ৩ হাজার ২০০ মানুষের বেশি। ভিডিওটি দেখা হয়েছে দুই লক্ষ ৮৪ হাজার বার।

    এই পোস্টের কমেন্ট ঘেঁটে দেখা যায়, শান নামে আইডি লিখেছে “পুলিশগুলো কি সিনেমা দেখতে আসছে”। মো. মোসাহিদ মিয়া লিখেছেন, “অশিক্ষিত জাঝাবর। আফ্রিকার জঙ্গলের মানুষ এরা”। ফকরুল ইসলাম লিখেছেন, “দেখার মতো একটা খেলা, আবার গ্যালারিতে পুলিশ আছে”। কাউসার ডালি লিখেছেন, “পুলিশ নিরব কেন কিছুই তো বুঝলাম না”।

    আইয়ুব আলী লিখেছেন, “এই লোক গুলো আর মানুষ হইলো না”। মো. মোল্লা লিখেছেন, বিশ্ব মানবতা যখন করোনাক্রান্ত, সভ্য ধংশের মুখোমুখি তখন মানুষরুপি অমানুষগুলি রক্তের হলিখেলায় মেতে উঠেছে। এখানে কি কোন ভাল মানুষ নাই?”।মিরাজ হোসাইন লিখেছেন, “পুলিশ মজা লইতে গেছে।” কবির হোসাইন লিখেছেন, “আহারে পুলিশ বেচারারা অসহায় হয়ে দর্শকের ভুমিকা পালন করে।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

  • ফেসবুকে চিনাইরবার্তা.কম