• শিরোনাম

    নবীনগরে প্রবাসীর স্ত্রীকে বেঁধে শালিস করলেন আওয়ামী লীগ নেতা, গ্রেপ্তার ৪

    চিনাইরবার্তা.কম | রবিবার, ১০ মে ২০২০

    নবীনগরে প্রবাসীর স্ত্রীকে বেঁধে শালিস করলেন আওয়ামী লীগ নেতা, গ্রেপ্তার ৪

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার শ্যামগ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এক প্রবাসীর স্ত্রীকে বেঁধে এনে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে শালিস বসিয়ে সোয়া লাখ টাকা জরিমানা রায় ঘোষণা করে। এ ঘটনায় নির্যাতিত ওই মহিলা বাদী হয়ে আজ শনিবার নবীনগর থানায় চাঁদাবাজি ও পর্নোগ্রাফি আইনে পাঁচজনকে আসামী করে একটি মামলা করলে পুলিশ ২৪ ঘন্টা না পেরুতেই চারজনকে গ্রেপ্তার করে।

    গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলো- শ্যামগ্রাম ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি রঞ্জন দেবনাথ, সহ-সভাপতি দেলোয়ার হোসেন, শ্যামগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের ৫নং ওয়ার্ডের মেম্বার ও যুবলীগ নেতা বোরহান উদ্দিন ছুট্টু, জাহিদুল ইসলাম দুলাল। মামলার অপর আসামি সিএনজি চালক শ্যামগ্রামের সোনা মিয়ার ছেলে জয়নাল আবেদীনকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।

    জানা যায়, শ্যামগ্রামের ৫নং ওয়ার্ডের ইউসুফ মিয়ার মেয়ে হোসনা বেগমের বিয়ে হয় একই ইউনিয়নের কুড়িনাল গ্রামের দুবাই প্রবাসী মোশাররফ পারভেজের সাথে। এই দম্পতির আরাফাত নামে পাঁচ বছর বয়সী প্রতিবন্ধী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। স্বামীর সাথে গত কয়েক মাস ধরে বিরোধ চলছে হোসনার। সেই বিরোধ মেটানোর জন্য তার স্বামীর আত্মীয় কুড়িনাল গ্রামের শামীমকে পরামর্শের জন্য গত ৩ মে শ্যামগ্রামে বাবার বাড়িতে ডেকে আনা হয়।

    ইফতার শেষে দুজন আলোচনা করছিলেন। এমন সময় যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতারা বাসায় ঢুকে দরজা বন্ধ করে তাদের দুজনকে বেধড়ক মারধর করে। একপর্যায়ে তাদের দুজনকে বিবস্ত্র হয়ে জড়িয়ে ধরতে বাধ্য করে সন্ত্রাসীরা। আপত্তিকর অবস্থায় দুজনের ছবিও তুলে তারা। পরে দুজনকে বেঁধে শ্যামগ্রাম বাজারে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে গভীর রাতে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিন ধনু মেম্বারের মাধ্যমে সালিশ করে দুজনকে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করে। যার মধ্যে ৫০ হাজার টাকা নগদ ও বাকি টাকা এক সপ্তাহের মধ্যে পরিশোধের সিদ্ধান্ত হয়। পরে সাদা কাগজে স্বার রেখে পরিবারের জিম্মায় দুজনকে ছেড়ে দেয় তারা। এই ঘটনা এলাকায় তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়েছে।

    এ ব্যাপারে শ্যামগ্রামে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিন ধনু মেম্বার বলেন, ছেলে-মেয়েটিকে এলাকার ছেলেরা ধরে এনেছিলো। আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে রাত বারোটার দিকে তাদের বিচার করে অভিভাবকের বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। কিন্তু কোন টাকা-পয়সার লেনদেন হয়নি।

    এ ব্যাপারে নির্যাতিত ছেলে শামীম মিয়া বলেন,”আমাকে ধনু মেম্বারের লোকজন আমাকে মাইরধইর করে কাপড় খুলে ছবি তুলেছে। পরে হাতে বেঁধে ধনু মেম্বারের অফিসে নিয়া আমাকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করেছে। ৫০ হাজার টাকা দিয়া ছুইটা আসছি। আমার উপর অন্যায় করছে ধনু মেম্বার ও তার লোকজন।”

    এ বিষয়ে মামলার বাদী, প্রবাসীর স্ত্রী হোসনা বেগম বলেন,”আমার জামাইর সাথে একটু ঝামেলা চলতাছে তাই আমার আতœীয় শামীমরে আনছিলাম। দরজা খুলে কথা কইতাছিলাম, হেরা(আসামী) আইসা আমরারে মাইরধইর কইরা লেংটা কইরা ভিডিও করছে। পরে ধনু মেম্বারের অফিসে নিছে বাইনদ্যা, সেখানে ধনু মেম্বার আমরা দুইজনকে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করছে। তাই আমি আজকা থানায় মামলা করছি।

    এ বিষয়ে নবীনগর থানার ওসি রনোজিত রায় বলেন, “শ্যামগ্রামের ঘটনায় পাঁচজনকে আসামী করে চাঁদাবাজি ও পর্নোগ্রাফী আইনে একটি মামলা হয়েছে। চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পলাতক ১ আসামীকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।”

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

  • ফেসবুকে চিনাইরবার্তা.কম