• শিরোনাম

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সোনালী ধানের বাম্পার ফলন, শ্রমিক সংকটে ধান কাটা ব্যাহত

    চিনাইরবার্তা.কম তৌহিদুর রহমান নিটলঃ | শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২০

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সোনালী ধানের বাম্পার ফলন, শ্রমিক সংকটে ধান কাটা ব্যাহত

    ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় নাসিরনগর, সরাইল ও নবীনগরসহ বেশ কয়েকটি উপজেলায় সোনালী ফসল ধানে ছেঁয়ে গেছে বিস্তৃত ভূমি। যা চোঁখ জুড়ানো মত। ধানের উৎপাদনে কৃষকের মুখে হাসির ঝিলিক। কিন্তু আকষ্কিক করোনার থাবায় তাদের স্বপ্ন অনেকটা যেন লন্ড ভন্ড। মাঠে মাঠে যখন পাকা ধান কাটার সময় হয়েছে তখনই হানা দিয়েছে প্রান ঘাতি করোনা। আর এর প্রভাবে ধান কাটা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। জমিতে পাঁকা ধান থাকলেও ধান কাটার শ্রমিক মিলছে না। বাধ্য হয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে অনেকটা লুকো ছাপ করে ধান কাটছেন অনেক কৃষকরা। এ নিয়ে চিন্তিত কৃষক, চোঁখে-মুখে হতাশা।

    সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, জেলার নাসিরনগরের ধরন্তি হাওর, শাপলা বিল, লইস্কা বিলসহ চারিদিকে সোনালী ফসলের আভা। মাঠজুড়ে এই সোনালী ফসল। চলমান করোনার প্রভাবে ব্যাপকভাবে শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে জেলায়। অন্য জেলা থেকে ধান কাটার শ্রমিক আসতে পারছে না। টাকা দিয়েও শ্রমিক পাওয়া দুঃসাধ্য। কৃষকরা বলছেন, ধান কাটার সময় নরসিংদী, কিশোরগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে শ্রমিকরা এসে ধান কাটায় অংশ নিত। কিন্ত করোনা সংকটের কারণে শ্রমিকরা ধান কাটার জন্য আসতে পারছে না। কিছু কিছু ক্ষেত্রে কৃষক নিজের পরিবারের সদস্যদের নিয়েই কোন রকমে কষ্টার্জিত ধান ঘরে তুলতে কোন রকমে কাজ করছেন। ফলে মাঠের ধান মাঠেই নষ্ট হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

    এছাড়াও বৈরী আবহাওয়ার কারণে ইতিমধ্যে বেশ কিছু জায়গায় ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কৃষক রহমত আলী ও আমির হোসেন বলেন, জমির কাছে এসে পাকা ধান দেখে বুকটা হাহাকার করছে। কি ভাবে ফসল কাটব বুঝতে পারছিননা। জমি তো পাঁকা ধানের গন্ধে ম” ম” করছে। ফসলের উৎপাদন ভাল হয়েছে।শ্রমিক সংকট তাই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কোন রকমে ধান কাটা চালিয়ে যাচ্ছি। কৃষি বিভাগ সুত্র জানায়, চলতি বছর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১ লাখ ১০ হাজার ৮শ ৮৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩২ হাজার হেক্টর হাওড়ের ফসল রয়েছে। জমির ধান থেকে ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৮শ ১০ মেট্রিক টন চাল উৎপাদন হবে। যার বাজার মূল্য প্রায় ১৬শ কোটি টাকা। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক, মোঃ রবিউল হক মজুমদার বলেন, দুর্যোগময় পরিস্থিতি কৃষকের জন্য আসলেই বড় চ্যালেঞ্জ।

    তবে তিনি শ্রমিক সংকটসহ সমস্যা সমাধানের কথা জানিয়েছেন। তিনি জানান, সরকার এ জন্য ধান কাটার যন্ত্র দিয়েছে ভতুর্কি দিয়ে। গত ২০১৭-১৮-১৯ সালে জেলায় ধানের বাম্পার ফলন হয়। এতে জেলার খাদ্য চাহিদা পূরণ হয়। চলতি বছরও বাম্পার ফলনের আশা করছি আমরা।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

  • ফেসবুকে চিনাইরবার্তা.কম