• শিরোনাম

    শোকের মিছিলে কারবালা স্মরণ

    চিনাইরবার্তা.কম | মঙ্গলবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯

    শোকের মিছিলে কারবালা স্মরণ

    ‘হায় হোসেন, হায় হোসেন’ মাতম তুলে বুক চাপড়াচ্ছেন তারা। পরনে কালো কাপড়। অনেকের চোখ বেয়ে ঝরছে অশ্রুধারা। গভীর শোকে যেন তারা মুহ্যমান। কারবালার স্মরণে ঢাকার হোসেনি দালান থেকে শিয়া মুসলমানদের বের করা তাজিয়া মিছিলে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। কঠোর নিরাপত্তার মধ‌্যে চলছে এই মিছিল।

    ১০ মহররম মুসলিম বিশ্বে ত্যাগ ও শোকের প্রতীক। বাংলাদেশে ধর্মপ্রাণ মুসলমান বিশেষ করে শিয়া মুসলমানরা ধর্মীয় অনুশাসনের মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করেন। ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হতে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর দৌহিত্র ইমাম হোসেনকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন মুয়াবিয়াপুত্র ইয়াজিদ। পরিকল্পনা অনুযায়ী হিজরি ৬১তম বর্ষের (৬৮০ খ্রিস্টাব্দ) এই দিনে ফোরাত নদীর তীরে কারবালা প্রান্তরে শহীদ হন ইমাম হোসাইন।

    এ শোক ও স্মৃতিকে স্মরণ করে সারাবিশ্বে মুসলিমরা বিশেষ করে শিয়া সম্প্রদায়ের লোকেরা আশুরাকে ত্যাগ ও শোকের দিন হিসেবে পালন করেন। বরাবরের মত এবারও পুরান ঢাকার হোসনি দালান থেকে তাজিয়া মিছিল বের করে  শিয়া সম্প্রদায়ের মানুষ।

    তাজিয়া মিছিলে অংশ নিতে সকাল থেকে ঘোড়া, কবুতর ও নিশানসহ বিভিন্ন উপকরণ নিয়ে হোসেনি দালান প্রাঙ্গণে আসতে থাকেন শিয়া সম্প্রদায়ের মানুষ। সকাল ১০টার পর ইমামবাড়ার সামনে থেকে ‘হায় হোসেন-হায় হোসেন’ মাতম তুলে শুরু হয় বিশাল তাজিয়া মিছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে মিছিলটি পলাশি, নিউমার্কেটের রাস্তা হয়ে ধানমন্ডি লেকে গিয়ে শেষ হবে।

    মিছিলে অনেকের হাতেই দেখা যায় জরি লাগানো লাল আর সবুজ নিশান, মাথায় শোকের কালো কাপড়। কারবালার স্মরণে কালো চাঁদোয়ার নিচে কয়েকজন বহন করেন ইমাম হোসেনের (রা.) প্রতীকী কফিন।

    হোসনি দালান ইমামবাড়ার প্রশাসনিক কর্মকর্তা মির্জা মোহাম্মদ নাকি আসলাম জানান, ৪০০ বছর ধরে পুরান ঢাকায় শোকের মাতম অর্থাৎ তাজিয়া মিছিল বের করা হয়। কারবালায় ইমাম হোসেনসহ তার পরিবারকে হত্যার মধ্যদিয়ে যে বিষাদময় ঘটনা ঘটেছে ইতিহাসে তার পুনরাবৃত্তি হবে না। মিছিলে বিভিন্ন ধর্ম ও গোষ্ঠীর মানুষ অংশ নিয়েছে।